প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘আত্মনির্ভর ভারত’ ও ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ নীতিকে সামনে রেখে ভারতে রাফাল যুদ্ধবিমানের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ উৎপাদনের পথে এগোতে চলেছে কেন্দ্র। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সূত্র উদ্ধৃত করে প্রকাশিত খবরে দাবি করা হয়েছে, ফ্রান্সের দাসো অ্যাভিয়েশনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে আরও ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান নির্মাণের বিষয়ে চলতি সপ্তাহেই আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হতে পারে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তা স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ প্রতিরক্ষা চুক্তি হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
![]() |
| Made in India Rafal |
ভারতের (India) দেশীয় যন্ত্রাংশে তৈরি হবে নতুন প্রজন্মের রাফাল
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত চুক্তির মোট আর্থিক মূল্য প্রায় ৩ লক্ষ ২৫ হাজার কোটি টাকা। চলতি বছরেই এই চুক্তির কাঠামো চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রতিরক্ষা সচিবের নেতৃত্বাধীন সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় পর্ষদ বা ডিফেন্স প্রোকিওরমেন্ট বোর্ড (ডিআরবি) এই প্রকল্পের প্রাথমিক মূল্যায়ন সম্পন্ন করেছে। ডিআরবি-র ছাড়পত্র মিললে প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা সামগ্রী ক্রয় বিষয়ক কমিটি বা ডিএসি-র কাছে পাঠানো হবে।
মূল্যায়ন কমিটির রিপোর্টে জানানো হয়েছে, প্রথম পর্যায়ে ভারতে নির্মিত রাফাল যুদ্ধবিমানে অন্তত ৩০ শতাংশ দেশীয় যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম ব্যবহার করা হবে। পরবর্তী ধাপে সেই দেশীয় অংশীদারিত্ব বাড়িয়ে ৬০ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রস্তাবিত ১১৪টি রাফালের মধ্যে ১৮টি যুদ্ধবিমান সরাসরি ফ্রান্স থেকে আমদানি করা হবে। তুলনামূলক ভাবে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি তেজস যুদ্ধবিমানে বর্তমানে প্রায় ৬২ শতাংশ ভারতীয় যন্ত্রাংশ ব্যবহৃত হচ্ছে।
২০২০ সালের জুলাই মাস থেকে ফ্রান্স থেকে ধাপে ধাপে মোট ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে এসেছে, যার মধ্যে আটটি ছিল দু’আসনবিশিষ্ট প্রশিক্ষণ বিমান। এই যুদ্ধবিমানগুলির কার্যকারিতা ও অপারেশনাল সক্ষমতায় সন্তুষ্ট হয়ে গত বছর প্রধানমন্ত্রী নেতৃত্বাধীন নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিগোষ্ঠী বা সিসিএস আরও রাফাল কেনা বা যৌথ উদ্যোগে নির্মাণের প্রস্তাবে সবুজ সংকেত দেয়। এর পরই ১১৪টি মাল্টিরোল এয়ারক্র্যাফ্ট সংগ্রহের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করে ডিআরবি।
প্রসঙ্গত, এক দশক আগেই ভারতীয় বায়ুসেনা জানিয়েছিল তাদের প্রয়োজন অন্তত ১২৬টি নতুন যুদ্ধবিমান। কিন্তু সেই সময় দাসোর সঙ্গে চুক্তি সীমাবদ্ধ ছিল ৩৬টি রাফালে। এর পাশাপাশি মিগ-২১ ও মিগ-২৩-এর মতো পুরনো যুদ্ধবিমান ধাপে ধাপে অবসর নেওয়ায় বায়ুসেনার স্কোয়াড্রন শক্তিতে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। শুধু হ্যাল নির্মিত তেজস মার্ক-১এ দিয়ে সেই ঘাটতি পূরণ সম্ভব নয় বলেই বায়ুসেনার মূল্যায়ন। ফলে ‘অপারেশন সিঁদুরে’ পরীক্ষিত রাফালের উপরেই ভরসা রাখতে চেয়েছে বায়ুসেনা। নতুন পরিকল্পনায় বর্তমানে ব্যবহৃত রাফাল এফ-৩আর প্লাস বিমানগুলিকে আরও উন্নত এফ-৫ সংস্করণে উন্নীত করার কথাও রয়েছে, যাতে ভবিষ্যতের ফিউচার কমব্যাট এয়ার সিস্টেমের সঙ্গে সেগুলি সম্পূর্ণভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নতির চেষ্টা চলছে, ভারতবিরোধী প্রচার জটিলতার কারণ! মেনে নিলেন ইউনূস প্রশাসনের উপদেষ্টা
কড়া পদক্ষেপ দিল্লির নেই কেন, আক্ষেপ অন্দরেই
বড়দিনের আগে পার্ক স্ট্রিটে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা! কোন রাস্তায় কত ক্ষণ নিয়ন্ত্রণ, জানিয়ে দিলেন পুলিশ কমিশনার
রোজই তৈরি হচ্ছে নয়া রেকর্ড, আবার নতুন উচ্চতায় সোনা-রুপা
