ভোটব্যাঙ্কের জন্যই তৃণমূল অনুপ্রবেশকারীদের আড়াল করছে, মালদহের সভা থেকে অভিযোগ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷
![]() |
অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে সরব হয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলার সামনে একটা বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে৷ পৃথিবীর সমৃদ্ধ, বিকশিত দেশগুলিও নিজেদের দেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের তাড়িয়ে দিচ্ছে৷ পশ্চিমবঙ্গেও অনুপ্রবেশকারীদের বের করা জরুরি৷ অনুপ্রবেশকারীদের বের করে দেওয়া উচিত কি না? তৃণমূল সরকার থাকলে সেই কাজ অসম্ভব৷ আপনাদের অধিকার, জমি, মা, বোনেদের নিরাপত্তা থাকবে না৷ তৃণমূল কোনও দিন এদের তাড়াবে না৷ কে তাড়াবে?’
তৃণমূল অনুপ্রবেশকারীদের আড়াল করছে বলে অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শাসক দল তৃণমূল তৃণমূলের নেতা, সিন্ডিকেট বছরের পর বছর ধরে অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাচ্ছে, ভোটার তৈরি করছে৷ যারা অনুপ্রবেশকারী তারা গরিবের অধিকার, তরুণ প্রজন্মের কাজ কেড়ে নিচ্ছে৷ নারীদের উপরে অত্যাচার চালাচ্ছে৷ দেশে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করছে৷ রাজ্যের অনেক জায়গায় জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে৷ অনুপ্রবেশকারী এবং এখানকার শাসক দলের এই জোট ভাঙতে হবে৷ আমি আশ্বাস দিচ্ছি, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলেই অনুপ্রবেশকারীদের উপরে বড় পদক্ষেপ করা হবে৷’
একই সঙ্গে অবশ্য মতুয়া শরণার্থীদের নাগরিকত্ব নিয়ে আশ্বস্ত করেছেন মোদি৷ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যাঁরা শরণার্থী, মতুয়া, নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ের মানুষ, যাঁরা পড়শি দেশে ধর্মীয় হিংসার শিকার হয়ে এ দেশে আশ্রয় নিয়েছেন তাঁদের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই৷ তাঁদের সংবিধান ভারতে থাকার অধিকার দিয়েছে৷ মোদি সিএএ-র মাধ্যমে শরণার্থীদের সুরক্ষা দিয়েছে৷ এখানে যে বিজেপি সরকার তৈরি হবে, তারা মতুয়া, নমঃশূদ্রদের আরও উন্নতি করবে৷’
বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে আসলে কী কী পরিবর্তন হতে পারে?
ভবিষ্যত বলা সত্যিই মুস্কিল। কিন্তু বিজেপি এর শাসন করার ধরন দেখে যেটুকু বলা যায়।
১. সরকারি চাকরিতে যারা ঢুকবে তাদের পেনশন বন্ধ হবে। NPS চালু হবে। একমাত্র পশ্চিমবঙ্গের সরকারি চাকুরেরাই এই সুবিধে পেত। সেটা বন্ধ হবে।
২. কেন্দ্র রাজ্য সংঘাত এর জন্য কিছু প্রকল্পের সুবিধে পশ্চিমবঙ্গ বাসি পাচ্ছিলনা। আশা করি সেটার সুরহা হবে।
৩. পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যাবস্থায় যে বামপন্থী ছোঁয়া ছিল সেটা বদলাবে। শিক্ষার গেরুয়াকরণ হবে । এই জমানার মত পরের জমানাতেও যাদবপুর আর প্রেসিডেন্সি টার্গেট হলে থাকবে।
৪. আশা করি বেশ কিছু নতুন শিল্প আসবে পশ্চিমবঙ্গে। আশা করি শিল্পক্ষেত্রে কিছু মানুষ এর কর্মসংস্থান হবে।
৫. বেশ কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠানের বেসরকারিকরণ হবে। সরকারি চাকরির আশা কম করবে পশ্চিমবঙ্গবাসি ।
৬. আইন ব্যাবস্থার কোনো উন্নতি হবে বলে মনে করিনা। কারণ বিজেপি সেই লোকগুলোই করছে যারা একসময় তৃণমূলে থেকে গুন্ডাগিরি করতো। যারা এখনো দল বদলায়নি তারা বিজেপি ক্ষমতাই এলেই দলবদল করবে। কারণ আদর্শের জন্য কেউ তৃণমূল পার্টি করেনা । সবাই নিজেরটা বুঝে নেওয়ার জন্যই তৃণমূল করে।
৭. পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি তে একটা লোক ও নেই যাকে আমরা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পেয়ে গর্ববোধ করতে পারি। তাই যেই মুখ্যমন্ত্রী হোক না কেনো প্রশাসনিক দিক থেকে খুব একটা বদল আশা করছিনা।
৮. সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ চরমে উঠবে। মানুষজনের মধ্যে বিশ্বাস টাই হয়তো শেষ হয়ে যাবে। বন্ধুরা হয়তো আর বন্ধু থাকবেনা। কেউ হিন্দু আর কেউ মুসলিম হোয়ে যাবে।
৯. Infrastructure দিক থেকে কিছুটা উন্নতি হবে বলে আশা করতে পারি। রাস্তাঘাট একটু ভালো হবে আশা করি।
১০. গরীব মানুষদেরকে পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতিটা হয়তো বন্ধ হবে। কারণ বিজেপি এর অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি একটু অন্যরকম।
নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নতির চেষ্টা চলছে, ভারতবিরোধী প্রচার জটিলতার কারণ! মেনে নিলেন ইউনূস প্রশাসনের উপদেষ্টা
কড়া পদক্ষেপ দিল্লির নেই কেন, আক্ষেপ অন্দরেই
বড়দিনের আগে পার্ক স্ট্রিটে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা! কোন রাস্তায় কত ক্ষণ নিয়ন্ত্রণ, জানিয়ে দিলেন পুলিশ কমিশনার
রোজই তৈরি হচ্ছে নয়া রেকর্ড, আবার নতুন উচ্চতায় সোনা-রুপা
